Followers

Saturday, August 15, 2020

পতাকার আর এক রং

                                  
                                            
  "বন্দে মাতরম্ ৷সুজলাং সুফলাং মলয়জশীতলাম্ শস্যশ্যামলাং মাতরম্ ! ........." এই গানেই সকালের ঘুম ভাঙলো দিয়ার।দিয়া ক্লাস ফোরে পড়ে। পাশের গ্রামের মাঠ পেরিয়ে এক ছোট প্রাইমারি স্কুলে। 
      আজ স্বাধীনতা দিবস ।মাথায় গেরুয়া , সবুজ ,সাদা ফিতে, এক হাতে কাগজের বানানো জাতীয় পতাকা ও এক হাতে  ঝুড়ি ভর্তি ফুল নিয়ে তেরঙ্গা পোশাক পরিধান করে যথা সময়ে রওনা হলো স্কুল এর দিকে।গ্রাম থেকে স্কুল প্রায় ১৫ মিনিটের হাঁটা পথ।দিয়া হেঁটেই রোজ স্কুলে যায়। আজ ও খুব খুশি কারণ স্কুলে ওরা বন্ধুরা মিলে স্বাধীনতা সংগ্রামী দের উপর একটা নাটক  পরিবেশন করবে আর সেইজন্যই তো নিজেকে সাজিয়ে তুলেছে তেরঙ্গা পোশাকে।
     আজ খুব বৃষ্টি রাস্তাও ফাঁকা ।রাস্তায় হাটতে হাটতে মনে মনে ভাবতে থাকলো তার নাটক দেখতে দর্শক এর ভিড় হবে তো!!!ভাবতে ভাবতে হঠাৎ তার নজরে পড়লো ,ওই মাঠেই  কয়েকজন ছেলেরা মিলে পতাকা উত্তোলন করছে ।সেই দেখে দিয়ার ইচ্ছে হলো একবার ওখান থেকে ঘুরে তারপর স্কুলে যাবে। এদিকে ঠিক সকাল ৮:৩০ টাতে স্কুলে  জাতীয় পতাকা উত্তোলন হলো। সবাই এক এক করে শহীদ বেদিতে মাল্য দান করে জাতীয় সঙ্গীত গাইলো।কিন্তু দিয়া এখনো স্কুলে পৌঁছালোনা।এদিকে ওর বন্ধুরা অপেক্ষা করছে নাটক পরিবেশনের জন্যে।স্কুল এর সমস্ত টিচার দের জানানো হলো ।মাইকে ঘোষনাও করা হলো। কিন্তু দিয়া তো স্টেজে এলোনা ।কোনো ক্রমে দিয়া কে ছাড়াই নাটকটি শেষ মুহূর্তে সমাপ্ত করা হলো।
প্রায় বারো ঘণ্টা কেটে গেলো দিয়ার খোঁজ এখনো পাওয়া যায়নি।সারা গ্রাম দিয়া কে তন্ন তন্ন করে খুঁজছে।অনেক চিরুনি তল্লাসী চালানোর পর অবশেষে দিয়ার খোঁজ পাওয়া গেল।সেই মাঠের এক কোনে সজ্জিত পতাকার সাথে এবং তার  গা এ তখন গেরুয়া , সাদা সবুজ ছাড়াও আর একটা রং ছিল ______লাল!!!
    দেশ স্বাধীন তো হলো । কিন্তু পতাকা আজ  লাঞ্চিত ,কলংকিত ।ছোট্ট দিয়ার মতো প্রতিনিয়ত রক্তাক্ত কাপড় দিয়ে ঢাকা হচ্ছে ভারতমাতার নিথর দেহ।যেদিন  চিরকাল এর জন্যে মুছে যাবে এই লাল রং ।সেইদিন থেকে উদয় হবে প্রকৃত স্বাধীন দিবসের সূর্য । এখন তো শুধুই নিদ্রাহীন অন্ধকার রজনী।

                                                                                                       Chitra Adhikary (15/08/2020)

Saturday, August 8, 2020

প্রেম ও প্রকৃতি

                                         
    আমার বাড়ি টা মহারাণীর বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে ......মহারানী অর্থাৎ ভিক্টোরিয়া ..জায়গাটা প্রায় সকলের  জানা।তাই প্রায়শই বিকেল বেলা একটু প্রকৃতির স্পর্শ পেতে চাইলে চলে আসি এখানে।প্রায় ঘন্টা খানেক ঘোরাফেরা করি..গাছ গাছালি ,কাক পক্ষী, ঝিল এবং ঝিল এর মাছ এরাই আমার বন্ধু।এদের সাথেই আড্ডা মেরে সন্ধ্যের আগে বাড়ি ফিরে যাই___। আর  কাক পক্ষী বলতে একটা কথা মনে পড়লো..যদিও বা ভারতবর্ষে শালিক পাখি প্রায় লুপ্ত কিন্তু এখানে জোড়া শালিক খুব বেশি দেখা যায় _____হা হা হা!!!  আসলে একটু মজা করলাম ..জোড়া শালিক অর্থাৎ মানুষ রুপী প্রেম পক্ষী। ওদের আর আমার মধ্যে মিল হচ্ছে যে ওরাও প্রেম করছে আর আমিও.... আজ্ঞে হ্যাঁ.. ওরা মানুষ এর সাথে আর আমি প্রকৃতির সাথে___Love is love.....
    কিন্তু আমার সবার মধ্যে থেকে একটা জোড়া শালিক কে খুব পছন্দ..ওরা সবার চেয়ে আলাদা..প্রায় সাথে একটা Notebook এনে কিসব লিখে এবং আঁকে।সবচেয়ে যেটা ভালো লাগে ওদের প্রান খোলা হাঁসি...যেন জীবন এর আনন্দের রসদ গুলি পরিপূর্ণ ভাবে উপভোগ করছে ,আর এই কারণ এই ওদের দিকে প্রায় আমার নজর  চলে যায়। 
     আজ খুব বৃষ্টি ......!!  থামছেইনা..পার্ক এর প্রায় সবাই একটা শেডে র নিচে দাড়াল।পাশে আমার সেই favourite love birds....আমি তাদের দিকে তাকাতেই তারা একটা মুচকি হাসি দিল,বোধ হয় ওরা বুঝতে পেরেছে আমি ওদের লক্ষ করছিলাম।অতঃপর আমি সময় নষ্ট না করে ওদের জিজ্ঞাসা করলাম___" বাড়ি কোথায়??"মেয়েটি লিখে উত্তর দিলো _____"সামনেই মেট্রো স্টেশন এর কাছে "
        ঠিকই ধরেছেন মেয়েটি আসলে বোবা..আর ছেলেটি কানে শুনতে পায়না।তাই হয়তো ওরা সাথে সবসময় নোটবুক রাখে ।মন এর ভাষা তো ওরা নোটবুক ছাড়াও পড়ে নিতে পারে.হয়তো এটা ওদের সাহায্য করে পারিপার্শিক অবস্থান একে অপর কে বোঝানোর জন্য ।আসলে দুজন সত্যি কারের ভালোবাসার মানুষ যখন কাছে আসে তখন মন এর ভাষা ব্যক্ত হয় স্বয়ংক্রিয় ভাবেই...ভালোবাসা চিরকাল ই নিশ্চুপ যা একে অপরের দুর্বলতার জায়গা থেকে দাঁড়িয়ে নিজেদের সবল করে তোলে। তাই শত আলিঙ্গন এর মাঝেও ওদের টা আমার লেগেছে  প্রকৃতির মতো নিঃস্বার্থ।নেই কোনো শারীরিক চাহিদা নেই কোনো কৃত্রিমতা।দুজন এর ফুল এর মতো নিষ্পাপ মন এর চিত্রিত রূপটি আমাকে বেশি মুগ্ধ করেছে।।।
                                                                                                  Chitra Adhikary 

Friday, August 7, 2020

death anniversary of RN Tagore


                  কবি প্রণাম 

"যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে,
আমি বাইব না মোর খেয়াতরী এই ঘাটে,....."




সাহিত্য কালের যাত্রা পথ এর চিত্রকার __
সোনার তরী ভাসিয়েছিলে গান এর ওপার।
রবি ছায়ায় শান্ত শীতল খোলা হাওয়ায়,
কাল থেকে কালান্তর এর নৌকাযাত্রী মোরা তোমার চয়নিকায়।
শ্রাবন এর অশ্রুধারায়  শেষের রাত্রী তে তোমার বিসর্জন।
দুর্গম পথে একলা চলার মন্ত্র শিখিয়ে গেলে না থাকলে পাশে কোনো জন।
বিশ্ব দরবারে আমার সোনার বাংলা গর্বিত তোমার আলোক প্রতিভায়।
এভাবেই জীবন এর চার অধ্যায় অতিক্রম করে পেলে তুমি মুক্তির উপায়
মৃত্যু কে জয় করে হয়েছো আজ তুমি মৃত্যুঞ্জয়!
বঙ্গবাসীর হৃদয়ে থাকবে চিরকাল অমর অক্ষয়।

নববর্ষ